April 19, 2026, 11:22 am

সিদ্ধিরগঞ্জে তিতাসের অবৈধ সংযোগ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেট

জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: সরকার ২০১৬ সালে তিতাস গ্যাসের আবাসিক সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করলেও, নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সংযোগের বিস্তার দিন দিন বেড়েই চলেছে। হাউজিং, ভূমি পল্লী, পুরো হিরাঝিল, রনি সিটি, মক্কিনগরসহ আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ এখন ওপেন সিক্রেট।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি সিদ্ধান্তে বৈধ সংযোগ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারদের কাজ নেই কিন্তু কিছু অসাধু ঠিকাদার ও দালাল চক্র এখন গোপনে অবৈধ সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে একদিকে সরকার বৃহৎ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে সংযোগ বাণিজ্য:
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তিতাসের কিছু অসাধু কর্মচারী ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে একটি দালাল সিন্ডিকেট এই সংযোগ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রকাশ্যে পাইপ বসানো, সংযোগ দেওয়া হলেও প্রশাসনের তেমন তৎপরতা নেই।

সরকার ও প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাড়ির মালিক বলেন, আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি নির্মাণ করেছি। তিতাসের সংযোগ ছাড়া ভাড়াটিয়া পাওয়া যায় না তাই আমরা বাধ্য হয়ে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করতে হচ্ছে। অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা হলেও সরকারের নির্ধারিত ফি যত টাকা আসে তত টাকাই আমাদের কাছে নিচ্ছে দালাল চক্র। তারা আরো বলেন দালাল চক্রকে টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে তারা তিতাস অফিসের মাধ্যমে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং জরিমানা করা হয়। তাই বাধ্য হয়েই দালাল চক্রকে মাসোয়ারা দিয়ে অবৈধ সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। ভবন মালিকরা আরো বলেন সরকার তিতাসের সংযোগ বৈধ করে দিলে যেমনি সরকার রাজস্ব পেত আমরাও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতাম।

হিরাঝিল মসজিদ গলির বিসমিল্লাহ ভবনের এক ফ্লাটের মালিক আখতার হোসেন তার বাড়িতে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন পুরো হিরাজিল এলাকাই অবৈধ আমি চালালে সমস্যা কোথায়।

অবৈধভাবে যারা সংযোগ দিচ্ছে তারা রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে। এতে তিতাস, সরকার ও জনগণ—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সচেতন মহলের দাবি অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও দায়ী কর্মকর্তা ও দালাল দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, নিরাপদ ও বৈধ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ তিতাসের একাধিক কর্মকর্তার সাথে অবৈধ সংযোগ ছিন্ন করার বিষয়ে জানানো হলেও তারা আসতেছি দেখতেছি বলে মাসের পর পর তালবাহানা করে যাচ্ছেন।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা